আজ তোমার পরীক্ষা, ''নন্দীগ্রাম''
দি নিউজ লায়ণ; চার জেলার ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। তার মধ্যে রয়েছে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামও। টানটান উত্তেজনার মাঝেই আজ ভোট-যুদ্ধে মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের আগের রাত থেকেই থমথমে নন্দীগ্রাম। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভারী বুটের আওয়াজ আর চাপা উত্তেজনা মাঝেই রাত কাটলো নন্দীগ্রামের। ভোটের সকালে এ যেন এক অন্য নন্দীগ্রাম।
যেখানে চারিদিক জুড়ে তৃণমূল, বিজেপি আর সিপিএমের পতাকার ছড়াছড়ি। এক রাতেই যেন কোনও এক মন্ত্রবলে রাজনৈতিক দলগুলির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে গোটা নন্দীগ্রাম। সাত সকালে আড়ামোড়া ভেঙেই নন্দীগ্রামের মানুষের সোজা গন্তব্য হয়ে উঠেছে ভোট কেন্দ্র গুলি। সকাল সকাল নিজের ভোট নিজে দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষার শপত নেওয়ার অঙ্গিকার তাদের চোখেমুখে। ভোটের সকালে সিপিএম, তৃণমূল আর বিজেপির লাল, সবুজ ও গেরুয়া রঙে মূলত নন্দীগ্রাম ছয়লাপ।
তবে তারমধ্যে চন্ডিপুর থেকে নন্দীগ্রাম যাওয়ার পথের দুপাশে যেন একটু বেশীই চোখে পড়ছে বিজেপির পোষ্টার, পতাকা আর ফ্লেক্স। অন্যদিকে, রেয়াপাড়া থেকে সোনাচুড়ার দিকে কম যাচ্ছে না তৃণমূলের পতাকাও। একটা সময়ে নন্দীগ্রাম আন্দোলন যে এলাকা ঘিরে হয়েছিলো সেই নন্দীগ্রামের গোকুলনগর, সোনাচুড়া, বয়াল, ভেকুটিয়াতে যথেষ্ট প্রভাব বেড়েছে বিজেপির।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকে তৃণমূলের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। এখানে তৃণমূলের ফেষ্টুন, পতাকা আর ‘বাংলা এবারে নিজের মেয়েকেই চায়’ জাতীয় ব্যানার বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে ভোটের সন্ধিক্ষণে দাড়িয়েও নন্দীগ্রামের মানুষ ভোটের রাজনীতি নিয়ে মুখ খুলতে সেই অর্থে নারাজ। অনেকেই বলছেন, ভোট তো দেবোই। কিন্ত কাকে দেবো তা এখনও ঠিক করিনি। আসলে দোটানা নাকি মুখ খুলতে চাইছেন না তাঁরা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তবে এই প্রথম নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর নন্দীগ্রামে সম্ভপবত কামড় বসাতে চলেছে সিপিএম।
কারণ, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর যে সিপিএম সেভাবে প্রচারে নামতে পারেনি এবারে সেই সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায় অনুগামীদের নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় মহল্লায় ঢুকে প্রচার সেরেছেন।ফলে নন্দীগ্রামে তৃণমূল বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমও যে এবারে অনেকটাই লড়াইতে উঠে আসতে চলেছে তা মোটামুটি স্পষ্ট। তবে এবারে মূলত নন্দীগ্রাম বিধানসভার ভোটের নীতি নির্ধারক হয়ে উঠবেন এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের দুটি ব্লকের ভোটাররাই। নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লক এবং নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের উপরেই ভর করে নির্ধারিত হয়ে যাবে প্রার্থীর মূল ললাট লিখন।
পরিসংখ্যান মতে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে মোট জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৭ হাজার ৮৩৫ জন। যাদের মধ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৬৩ জন। এই ভোটারের মধ্যে হিন্দু ভোটার ৬৫,৮ শতাংশ। আর মুসলিম ভোটার ৩৪ শতাংশ। ফলে এই মুসলিম ভোটারের মধ্যে যেমন তৃণমূলের প্রভাব কাজ করছে তেমনি সিপিএমের একটি ভোট ব্যাঙ্কও এখানে রয়েছে। পাশাপাশি, বিজেপিও এই ৩৪ শতাংশের ভোট ব্যাঙ্কে কমবেশী থাবা বসাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে নন্দীগ্রামের এই ১ নম্বর ব্লকে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। কার্যত ত্রিমুখী লড়াইয়ের একটি সমীকরণে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লক।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকে মোট জনসংখ্যা ১ লক্ষ ২৩ হাজার ২১৯ জন। যারমধ্যে ভোটার রয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৩৬ জন। এরমধ্যে হিন্দু ভোটার ৮৭.৭ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ১২.১ শতাংশ। ফলে এই ২ নম্বর বলকে তুলনামূলকভাবে বিজেপির প্রভাব বেশ কিছুটা বেশী। তবে এই ব্লকেও তৃণমূল লড়াই দিতে কম করবে না বলেও মেনে নিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই। নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ততকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হওয়া শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ৬৭,২ শতাংশ ভোট।
সিপিএমের আব্দুল কবির শেখ পেয়েছিলেন ২৬,৭ শতাংশ ভোট। বিজেপির বিজন কুমার দাস পেয়েছিলেন ৫.৪ শতাংশ ভোট। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের দিব্যেন্দু অধিকারী পেয়েছিলেন ৬৩,১৪ শতাংশ ভোট। বিজেপির সিদ্ধার্থ শঙ্কর নস্কর পেয়েছিলেন ৩০.০৯ শতাংশ ভোট। সিপিএমের ইব্রাহিম আলি পেয়েছিলেন ৪,৫২ শতাংশ ভোট। তবে এবারের নির্বাচনে 'শেষতক' কে মেলাবেন অঙ্ক? তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত।

Post a Comment